সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৯৪ জন শিশু। শুক্রবার (৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে পাওয়া গেছে হাম ও এর উপসর্গ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত সবশেষ আপডেট অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিশু মারা গেছে সিলেটে। এ সময়ে জেলাটিতে খালি হয়েছে তিন মায়ের কোল। এছাড়া, ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ২ শিশুর। সেইসঙ্গে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে শিশু মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
গতকালই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশব্যাপী মৃত্যু হয়েছে ১২ শিশুর। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ৬ শিশু।
এছাড়া, চারদিন আগে, গত ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৭ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এটিই একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা।
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৩৬ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে মোট ৫৬ শিশুর শরীরে।
এছাড়া, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২১২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৭১০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ৪৯০ জনের নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩২ হাজার ৮৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৯ হাজার ১৫২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।












